তারেক রহমান ও লি কিয়াং বৈঠক: ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে
Published : ১৭:২২, ২৫ জুন ২০২৬
চীনের সরকারি সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এসব সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকের পর চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
তিনি জানান, আগামীকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। উভয় বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে এবং ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের প্রত্যাশা রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। চীন এ খাতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বেইজিংয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে চীনের ৮০টিরও বেশি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং দ্রুত লাইসেন্স প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফর চলাকালে চীনের বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী, বিনিয়োগকারী ও অবকাঠামো খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সরকারের আশা, এই সফরের মাধ্যমে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করবে।


































