বাংলাদেশে বিনিয়োগে গুগল-মেটা-টিকটকের প্রস্তাব
Published : ২১:৪৯, ৮ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা ও টিকটক। এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাই-টেক পার্ক কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পার্কটির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে দেখতে মন্ত্রী সেখানে যান।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী গাজীপুর সফর করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ‘ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ বাস্তবায়ন এবং এআই হাব, সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিসক্যাল ও নন-ফিসক্যাল প্রণোদনার প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ পর্যন্ত ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যে ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে, ২৮টি নির্মাণাধীন এবং আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠান শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করবে।
পার্কটিতে মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৬৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। অন্যদিকে, পার্কটির মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এ পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
বর্তমানে পার্কটিতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন, ফাইবার অপটিক্যাল কেবল এবং গাড়ি উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। হুন্দাই, অনর ও শাওমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিওস্ক ও এটিএম মেশিনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। এই প্রকল্পে গুগল, মেটা ও টিকটকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যথাযথভাবে গড়ে তোলা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে পার্কটির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অসম্পূর্ণ অবকাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ডাবল লাইন সংযোগ, গ্যাসলাইন স্থাপন এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে কাস্টমস হাউস সেবা চালু, নিয়মিত রেল যোগাযোগ, জনবল ঘাটতি পূরণ এবং বিদ্যমান এসআরও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিনিয়োগ বাড়াতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবায় ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাসেম্বলিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের গতি আরও বাড়বে। এর ফলে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা কমানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
এ সময় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী কালিয়াকৈরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

































