অভিনয় শিখতে ঢাকায় এসে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন রিপন মিয়া

অভিনয় শিখতে ঢাকায় এসে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন রিপন মিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন ডেস্ক

Published : ১৮:০৭, ৮ আগস্ট ২০২৬

নেত্রকোনায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তাকে থানায় রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের (ডুমা) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মীর লোকমান।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রিপনকে নিয়ে এসব তথ্য জানান মীর লোকমান।

মীর লোকমানের দাবি, নেত্রকোনার নিজ এলাকার এক চারুকলা শিক্ষার্থী ও মূকাভিনয়কর্মীর মাধ্যমে রিপনকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি মীর লোকমানের বাসায়ও কিছুদিন ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাইম শেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে নেত্রকোনায় ফিরে গিয়ে রিপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর ক্যাপশনে পোস্ট দিতে থাকেন বলে দাবি করেন মীর লোকমান। তাকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করেননি বলেও জানান তিনি।

মীর লোকমানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও নেত্রকোনা জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান করা হয়। রিপনকে সারাদিন থানায় রাখা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার শর্তে তার ফোন থেকে সংশ্লিষ্ট ছবি, ভিডিও ও পোস্ট মুছে ফেলা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মীর লোকমান আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপনকে নিয়ে আলোচনা ও প্রচার শুরু হলে তিনি গত বছরও বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তবে ওই পোস্টের নিচে অনেকে তার সমালোচনা করেছিলেন বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি রিপনের নিজ এলাকায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের খবর জানতে পেরে মীর লোকমান তার পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ভাইরাল হলেই আবেগের বশে কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা বা প্রচার করা উচিত নয়।

এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও তৈরির অজুহাতে বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন রিপন। গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়ার জন্য তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরে সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে রিপনকে অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, গ্রেপ্তার রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে আগের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement