কর্তৃত্ববাদী শাসক না হওয়ায় জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও জিয়ার নাম নেই

কর্তৃত্ববাদী শাসক না হওয়ায় জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও জিয়ার নাম নেই ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৩৮, ৮ আগস্ট ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা উল্লেখ না থাকায় তৈরি হওয়া আলোচনা-সমালোচনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, প্রদর্শনীতে মূলত কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা এবং এসব শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা না করায় প্রদর্শনীতে তাঁর ভাষণ বা ভূমিকা রাখা হয়নি।

রাজধানীতে শনিবার (৮ আগস্ট) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে আমরা স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসেবে বিবেচনা করি না। উনি অটোক্রেট শাসক ছিলেন না। প্রদর্শনীতে যাদের কর্তৃত্ববাদী ও আগ্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, মূলত তাদেরই তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, মানুষের মুক্তি ও ন্যায্যতার জন্য যারা ভূমিকা রেখেছেন, প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশে তাদের অবদানও তুলে ধরা হয়েছে।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, বিভিন্ন সময়ে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং এসব আন্দোলনে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে। এসব আন্দোলনে অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে কারাবরণ ও মামলার হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বড় আন্দোলন গড়ে ওঠে।

জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। পরদিন ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

৩ ও ৪ আগস্টের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই সময় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের একটি অংশ জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গুমের ঘটনাও ঘটানো হয়েছিল।

প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো সরকারের সাফল্য তুলে ধরার আয়োজন নয়। বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রাম, নিপীড়নের ইতিহাস এবং শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা তুলে ধরাই এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার দিনই প্রকৃত অর্থে জুলাইয়ের সমাপ্তি হবে।

রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement