ন্যাটোকে পরীক্ষা করতে হামলা চালাতে পারেন পুতিন
Published : ১৯:৩১, ৮ আগস্ট ২০২৬
ন্যাটো জোট কতটা ঐক্যবদ্ধ, তা পরীক্ষা করতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জোটভুক্ত কোনো দেশে সীমিত আকারের হামলা চালাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক কয়েকটি গোপন মূল্যায়নে এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনটি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়ার সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা মূল্যায়ন করেছেন। এর মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে ন্যাটোর সীমান্তে ছোট আকারের সামরিক অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাও রয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ঐক্য এবং জোটের ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর প্রতি সদস্য দেশগুলোর অঙ্গীকার পরীক্ষা করা। ন্যাটোর এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়ার কথা।
তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ এমন মাত্রায় নাও যেতে পারে, যাতে ন্যাটোকে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। পুতিন কখন বা কীভাবে এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই। তবে একটি সূত্রের মতে, বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো কিংবা পোল্যান্ড সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মার্কিন ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিন যদি সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার পথ না পান, তাহলে তিনি ন্যাটোর সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
ইতোমধ্যে ন্যাটোর সীমানায় রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে রোমানিয়ায় একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুইজন আহত হন। একইভাবে ইউক্রেনে রুশ হামলার সময় পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি রুশ ড্রোন ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
সম্প্রতি জার্মানির একটি বিমানবন্দরের সুরক্ষিত কার্গো এলাকায় সামরিক বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন উদ্ধারের ঘটনাও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, ড্রোনটি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পাঠানো হতে পারে। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট ঘটনাটিকে ‘নতুন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক রাতের হামলায় রুশ ব্যালেস্টিক ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১৭ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
গোপন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র মার্টিন ও'ডনেল জানিয়েছেন, ন্যাটো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হলেও তা ইউক্রেনে পুতিনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এখনো যথেষ্ট প্রভাব ফেলেনি।


































