এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা : প্রধানমন্ত্রী

এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:১৮, ১০ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে ভঙ্গুর হয়ে পড়া বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে ঋণ ও আমদানিনির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সব ক্ষেত্রে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, দলটির নীতিতে সবসময় জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের যথেষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এসডিজির মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এবং বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মধ্যে মিল রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনকে সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর থেকেই নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিন গ্রামে চালু হচ্ছে ‘এসডিজি ভিলেজ’

‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের আওতায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরকে প্রাথমিকভাবে পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচিত গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ‘ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট’, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এর সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আশা, ‘এসডিজি ভিলেজ’ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উন্নয়ন মডেলে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কাজ করবে সরকার।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে সবাইকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement