টিসি দেওয়া সেই স্কুলছাত্রীকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ
Published : ১৬:৫০, ১০ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে লাথি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষার্থীকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত ক্লাস করার সুযোগ দিয়েছে।
রোববার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করেছে ওই ছাত্রী। সোমবারও তাকে বিদ্যালয়ে দেখা গেছে। এর আগে রোববার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে বিদ্যালয়ে ডেকে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান। এ সময় শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করার জন্য বলা হয়।
শিক্ষার্থীর বাবা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তাঁর মেয়েকে বিদ্যালয়ে পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পরে প্রধান শিক্ষক মেয়েকে বিদ্যালয়ে ডেকে নেন। রোববার ও সোমবার সে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করেছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার সন্তুষ্ট।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান বলেন, এখন আর কোনো সমস্যা নেই। শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের অবিচার যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ড্রেস পরা এক ছাত্রীকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে পেছন থেকে এক কিশোর লাথি মারছে। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করার পরও তাকে আবার লাথি মারা হয়।
ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে সালিসে বসেন। সেখানে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
এর মধ্যেই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি ছিল, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছিল।
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সোনারগাঁ পুলিশ রংপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে এনে থানায় নেয়। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ফেরার সুযোগ পেয়েছে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী।

































