নগদ লেনদেন কমছে, বাংলা কিউআরে ৫৬ লাখ লেনদেনে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
Published : ১৫:০৮, ১০ আগস্ট ২০২৬
দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। এরই মধ্যে গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় প্রায় ৫৬ লাখ লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসসকে জানান, সারা দেশে একক ও সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই এ পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়ছে। শুধু ২ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৮৭ কোটি টাকা।
সর্বশেষ এক সপ্তাহের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার লেনদেন হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬৫ টাকা।
এক কিউআরেই বিভিন্ন সেবার পেমেন্ট
বাংলা কিউআর এমন একটি সমন্বিত কিউআর কোড, যা অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে স্ক্যানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যায়। ফলে একটি দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আলাদা আলাদা পেমেন্ট সেবাদাতার জন্য একাধিক কিউআর কোড রাখতে হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই দৈনন্দিন কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করে আসছে। এর অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে দেশে সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে সরকারি সফরে গিয়ে তিনি বাংলা কিউআর প্রচারাভিযানেও অংশ নেন এবং ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।
গভর্নরের মতে, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমার পাশাপাশি লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও জাল টাকার ঝুঁকি কমানো এবং মুদ্রা ছাপানোর ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যবসায়ীদেরও বাড়ছে আগ্রহ
বাংলা কিউআর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে লেনদেনের সময় কমছে এবং নগদ টাকা ব্যবস্থাপনার ঝামেলাও কমে আসছে।
ফেনীর একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. মামুন ইসলাম বলেন, গ্রাহকেরা এখন ক্রমেই কিউআরের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে সময় বাঁচার পাশাপাশি খুচরা টাকা দেওয়ার সমস্যাও কমে।
মতিঝিলের এক মুদি দোকানি জানান, দোকানে ভিড়ের সময় কিউআর পেমেন্ট বেশি সুবিধাজনক। গ্রাহক কোড স্ক্যান করে দ্রুত অর্থ পরিশোধ করতে পারেন, ফলে নগদ টাকা গোনা ও সংরক্ষণের প্রয়োজন কমে যায়।
তবে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের চার্জ এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সহজ হচ্ছে দৈনন্দিন কেনাকাটা
গ্রাহকদের কাছেও কিউআর পেমেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে সঙ্গে নগদ টাকা রাখার প্রয়োজন কমে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা যায়। খুচরা টাকা ফেরত পাওয়ার ঝামেলাও থাকে না।
ব্যবহারকারীদের মতে, বাংলা কিউআরের অন্যতম বড় সুবিধা হলো আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা সম্ভব হওয়ায় ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআরে লেনদেনের দ্রুত বৃদ্ধি দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একক কিউআরভিত্তিক এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় হলে ভবিষ্যতে নগদনির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

































