থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি করে মারলেন সাবেক এমপি

থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাকে গুলি করে মারলেন সাবেক এমপি প্রতীকী ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৭:৩৯, ১০ আগস্ট ২০২৬

থাইল্যান্ডে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেশটির সাবেক এক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই সাবেক এমপি চালং রিউরাংকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংককের উত্তরের ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি ভবনের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের চালং জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ননথাবুরির স্থানীয় সরকার প্রশাসনের চেয়ারম্যান থংচাই ইয়েনপ্রাসের্টের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি থংচাইয়ের গাড়ির কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন।

চালংয়ের দাবি, থংচাই তার সঙ্গে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি পিস্তল বের করেন। তবে গুলি করার উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, গাড়িচালক পিস্তল তাক করায় তিনি গুলি চালাতে বাধ্য হন।

তবে পুলিশের তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওয়াতানা ইয়েচিন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চালংকে খুব কাছ থেকে একাধিকবার গুলি করতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে থংচাইয়ের গাড়ির ভেতর একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে, যদিও সেটি থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি।

হামলায় থংচাইয়ের ঘাড়ে গুলি লাগে। তাকে ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। তার গাড়িচালকও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অস্ত্রোপচারের পর তার চিকিৎসা চলছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মিলিয়ন বাথের আর্থিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। চালং দাবি করেছেন, নিহত কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে ওই অর্থ ধার নিয়েছিলেন। একাধিকবার ফেরত চেয়েও টাকা না পাওয়ায় বিরোধ তৈরি হয়।

ননথাবুরির গভর্নর চেস্তা মসিকারাত জানান, অভিযুক্ত ও নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। কোনো চরম ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

এই হত্যাকাণ্ডের পর থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। দেশটিতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যায়।

এর মাত্র কয়েক দিন আগে ননথাবুরিতেই ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে তার দাদা-দাদি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে স্কুলে গিয়ে হামলা চালানোর পর ওই কিশোর আত্মহত্যা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরপর এসব ঘটনায় দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার আগ্নেয়াস্ত্র আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকরভাবে অস্ত্র সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement