সমাধান খুঁজতে ভারত-বাংলাদেশকে একসঙ্গে বসতে হবে

সমাধান খুঁজতে ভারত-বাংলাদেশকে একসঙ্গে বসতে হবে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:২০, ১০ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা ও মতপার্থক্য সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর সমাধান খুঁজে বের করাই হওয়া উচিত দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য।


সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বিনয়ী ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু অভিন্ন সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা শুধু সীমান্তই ভাগ করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগ করি।’


দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। এসব মতপার্থক্যকে সম্পর্কের ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।


তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চান। অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।


এদিকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, অতীতকে পেছনে রেখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি ‘নতুন সূচনা’ প্রয়োজন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। দুই দেশের যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

তবে এ ক্ষেত্রে ভারতকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।


সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছে কয়েকজন পলাতক আসামির প্রসঙ্গও তোলা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যমান বন্দী বিনিময় ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত চিহ্নিত পলাতক অপরাধীদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান।


এ ছাড়া শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন তিনি।


জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বিষয়গুলো আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement