তারেক রহমানের খালাতো ভাইয়ের পেট্রোল পাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

তারেক রহমানের খালাতো ভাইয়ের পেট্রোল পাম্পের সোয়া কোটি টাকা ছিনতাই

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৫৫, ১০ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত টাকাবাহী গাড়ির গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পেট্রোল পাম্প থেকে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য একটি গাড়িতে করে অর্থ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে তারা মোটরসাইকেল দিয়ে গাড়িটিতে ধাক্কা দিয়ে সেটির গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ি থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ডিএল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার কেন ছিল বেশি টাকা

পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হয়।

তবে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের বিক্রির টাকা রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হচ্ছিল। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার গাড়িতে বেশি পরিমাণ টাকা ছিল।

ভেতর থেকে তথ্য ফাঁসের সন্দেহ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই সময়ে পেট্রোল পাম্পের টাকা ব্যাংকে নেওয়া হতো। এ কারণে টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই অবগত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের টাকা রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে—এই তথ্য দুর্বৃত্তরা আগে থেকে জানত কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পেট্রোল পাম্পের ভেতর থেকে কেউ টাকা বহনের সময়, রুট বা পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এখনো শনাক্ত হয়নি ছিনতাইকারীরা

ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি, শিগগির আসামি গ্রেপ্তার ও রহস্য উন্মোচন হবে।’

শেয়ার করুনঃ
Advertisement