নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ফের শঙ্কা, আরও পর্যালোচনার নির্দেশ
Published : ১০:৪২, ১৬ আগস্ট ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও জুডিসিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থাৎ শতভাগ ভাতা দাবি করায় গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর ফলে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনায় যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। কমিশনের সুপারিশ ও জুডিসিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে কোনো বৈষম্য বা অসংগতি থাকলে তা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার একই সঙ্গে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ও আর্থিক চাপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় আরও পিছিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
জুডিসিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগির বৈঠকে বসবে। এর আগে ১২ আগস্ট নির্ধারিত বৈঠক সদস্যদের উপস্থিতির অভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি।
কমিটির বৈঠকে জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হবে। বিচারকদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং তা কীভাবে মেটানো সম্ভব—এসব বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে, ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
































