নির্বাচনি ইশতেহারের ৯ অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন শুরু

নির্বাচনি ইশতেহারের ৯ অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন শুরু ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:২৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত ইশতেহারের ৯টি অগ্রাধিকারকে শুধু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা হিসেবে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছিল বিএনপি।

১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রথম ১৮০ দিনে এসব অগ্রাধিকার সামনে রেখে বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের মতো বিষয় রয়েছে।

ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। কার্ডধারীদের মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপণ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষায় কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্টার্টআপ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তরুণদের যুক্ত করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইশতেহারে বিএনপির ৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইশতেহারের ৯টি অগ্রাধিকারকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উৎপাদনমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তবে আগামী দিনে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব সুফল কতটা জনগণের কাছে পৌঁছানো যায়, সেটিই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৮০ দিন পূর্তিতে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতাই সরকারের রাজনৈতিক সাফল্য মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement