টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা, ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা, ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চট্টগ্রাম, ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি রিপোর্ট

Published : ১২:৩৮, ১৭ আগস্ট ২০২৬

টানা ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে নিচু এলাকার সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

হালিশহর, কাটালগঞ্জ, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, এসএম রোড, চকবাজার, কাপাসগোলা, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জামালখান ও নুপুর মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমেছে, আবার কিছু এলাকায় পানির উচ্চতা আরও বেশি হওয়ায় যান চলাচল ও মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক আবদুর রহমান খান জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬৭ মিলিমিটারে। বৃষ্টিপাত এখনও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। অন্যদিকে রিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিবিরহাটের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো. আশরাফুল আলম বলেন, বাড়ির সামনে পানি জমে থাকলেও কাজে যেতে হচ্ছে। যে পথে সাধারণত ২০ টাকা ভাড়া লাগে, সেখানে রিকশাচালককে ৪০ টাকা দিতে হয়েছে।

হামজারবাগে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকা অফিসগামী আজগর আলী বলেন, রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। একটি গাড়ি এলেই সবাই ওঠার জন্য ছুটছেন। এর মধ্যে রাস্তায় জমে থাকা পানির কারণে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিউ মার্কেট এলাকার নুপুর মার্কেটেও জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে। কয়েকটি বইয়ের দোকানে পানি ঢুকে বই নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনউদ্দীন জানান, তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের বাইরে রয়েছেন। প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে তিনি সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই একই এলাকাগুলোতে আবারও পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থায়ী সমাধানের জন্য নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement