পিংক বাসের ভাইরাল সেই নারী চালকের সম্পর্কে যা জানা গেল

পিংক বাসের ভাইরাল সেই নারী চালকের সম্পর্কে যা জানা গেল মোসা. রাবেয়া খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:২২, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পর বাসচালক হিসেবে পেশা বেছে নিয়েছেন মোসা. রাবেয়া খাতুন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিবারের অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। তবে পরিবারের আপত্তিকে বাধা হিসেবে না দেখে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন রাবেয়া।

তার কাছে বাস চালানো শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; বরং প্রচলিত ধারণা ভেঙে নতুন কিছু করার এবং দেশের পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সুযোগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নারীদের জন্য বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ উদ্বোধন করা হয়। এই সার্ভিসে নারী চালক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন।

রাবেয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিল, উচ্চশিক্ষিত একজন নারীর বাসচালক হিসেবে কাজ করা উচিত নয়। তবে রাবেয়া মনে করেন, বাসচালক হিসেবে নিজের পরিচয়কে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাসচালক না ভেবে নিজেকে একজন ‘পাইলট’ হিসেবে ভাবলে এই পেশায় কোনো সমস্যা দেখেন না তিনি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি অনেকেই ড্রাইভিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন উল্লেখ করে রাবেয়া প্রশ্ন রাখেন, বিদেশে সম্ভব হলে বাংলাদেশে কেন নয়?

দেশে নতুন কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিজেদের উদ্যোগেই পরিবর্তন আনতে হবে এবং প্রচলিত ধারণা ভাঙার চেষ্টা করতে হবে।

পিংক বাসের আরেক নারী চালক সুপ্রিয়া কুন্ডু বলেন, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই তিনি এই পেশায় এসেছেন। নারী চালক ও কন্ডাক্টর থাকায় নারীদের জন্য পিংক বাস আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ করে স্কুলগামী মেয়েদের নিরাপদ যাতায়াতে এই বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান সুপ্রিয়া। তার মতে, নির্দিষ্ট রুট ও সময়সূচি থাকলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে মায়েদের উদ্বেগও কমবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কে অন্য যানবাহনের চালকদের তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন না; বরং সহযোগী হিসেবে দেখেন। নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করাই পিংক বাস সার্ভিসের মূল লক্ষ্য।

আরেক নারী চালক রিমা পিংক বাস সার্ভিসের অংশ হতে পেরে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নারী যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement