বিদায়ী বক্তব্যে বারবার কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
Published : ১৯:৩৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন দলের সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে নিজের পক্ষে ভোট চান।
বুধবার দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে শুরু হওয়া বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল বা ত্রুটি হয়ে থাকলে তিনি সহকর্মীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দল থেকে পাওয়া সম্মান জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে গেলে দলীয় সহকর্মীদের ও বর্তমান পরিবেশের অভাব অনুভব করবেন উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া চান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ত্যাগ ও দলের প্রতি তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন। দলের কঠিন সময়ে ফখরুল সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কারাবরণও করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হওয়ায় এবারের স্থানীয় নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দূরত্ব তৈরি হলে তা দ্রুত নিরসনের নির্দেশ দেন তিনি।
গত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দল যাকে সমর্থন দেবে, তার বাইরে গিয়ে কেউ যেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করেন। স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করে তাদের বিজয়ী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদানের নিয়ম সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন। মির্জা ফখরুল নিজেও নির্বাচনে ভোট দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে আইন অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

































