নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
Published : ১৯:৪১, ১৯ আগস্ট ২০২৬
নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম মাত্র এক মাসের মধ্যে শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল শিকদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল শিকদার নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন নিহত শিশুর বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জান্নাতুল মাওয়া রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমানের মেয়ে। গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা শিশুটিকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী রবিউল শিকদারের ঘরের ভেতর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান তারা। সে সময় রবিউল বাড়িতে ছিলেন না।
পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২১ জুলাই নিহত শিশুর বাবা মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে একমাত্র আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্টসহ বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেন। পরে মাত্র ১১ কার্যদিবসের মধ্যে গত ৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে মাত্র ৯ কার্যদিবসে বাদীসহ মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত রবিউল শিকদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।































