চট্টগ্রামে ‘ইয়াবা মুরাদের’ বিরুদ্ধে মাদক-চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ

চট্টগ্রামে ‘ইয়াবা মুরাদের’ বিরুদ্ধে মাদক-চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Published : ১৯:২১, ১৯ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় যুবদলের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, দখল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মো. মুরাদ ওরফে ‘ইয়াবা মুরাদ’-এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় কোনো পদে না থাকলেও মুরাদ নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে পরিচয় দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় তার তৎপরতা বেড়ে যায় বলেও দাবি স্থানীয়দের। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনায় তিনি যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মুরাদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় মাদক ব্যবসা, জুয়া, দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড বেড়ে যায় বলে তারা দাবি করেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দলীয় সদস্যপদসহ মুরাদকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কীভাবে এবং কার মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চকবাজার থানায় ইয়াবা ও চুরির মামলা, কোতোয়ালি থানায় চুরির মামলা এবং বাকলিয়া থানায় ডাকাতির মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা থাকার তথ্য রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় মামলা

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকায় একটি ভবন নির্মাণের জন্য আনা পাঁচ হাজার ইটসহ পিরোজপুর-ড-১১-০২৭৮ নম্বরের একটি গাড়ি আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে মুরাদের বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়ির চালক ও হেলপারকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে গাড়ির মালিক বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মুরাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গত এক বছরে বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকায় চাঁদা দাবিতে গ্যারেজে ভাঙচুর, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মুরাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুরাদ নগরীর ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাসান লিটনের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

যুবদলে পদ নেই: সাবেক সভাপতি

মুরাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি। তিনি বলেন, মুরাদ যুবদলের কোনো পদে নেই এবং কখনো ছিলেনও না। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।

সর্বশেষ ১৪ আগস্টের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির বলেন, ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মুরাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আরও যাচাই ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement