এআই ক্যামেরায় দ্রুত শনাক্তে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট
Published : ১৮:৫৭, ২০ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরায় মোটরসাইকেলের নম্বর দ্রুত শনাক্ত করতে বাইকের সামনের অংশেও নম্বর প্লেট সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে মোটরসাইকেলের নকশা, বায়ুপ্রবাহ ও ইঞ্জিনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনায় সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিআরটিএকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বর্তমানে দেশে চলাচলকারী অধিকাংশ মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে নতুন করে প্লেট সংযোজন করলে বাইকের নকশা, বায়ুপ্রবাহ ও নিরাপত্তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
বিআরটিএ জানায়, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দিতে গত ১৩ আগস্ট সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নম্বর প্লেটের আকার, কোথায় এটি সংযোজন করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরায় সেটি কার্যকরভাবে শনাক্ত করা সম্ভব কি না—এসব বিষয় যাচাই করবে কমিটি।
কমিটিতে বিআরটিএ ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এর সিংহভাগ মডেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট বসানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেডলাইট বা রেডিয়েটরের সামনে নম্বর প্লেট বসানো হলে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে উচ্চগতিতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে।
এ ছাড়া নতুন সিদ্ধান্তটি শুধু নতুন নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, নাকি বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী পুরোনো বাইকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে—এ বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।
রাজধানীতে গত ৭ মে থেকে পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের ডিজিটাল মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এআই প্রযুক্তিনির্ভর এসব ক্যামেরায় যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের পাশাপাশি বিআরটিএর আরএফআইডি (RFID) প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বাইক শনাক্তকরণ আরও সহজ এবং তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে।
বিআরটিএ গঠিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরই মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট সংযোজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





























