জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
Published : ১৫:৪৬, ২০ আগস্ট ২০২৬
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বহুল আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শাখাওয়াত, সোহেল, আল-আমিন, সাদ্দাম, অন্তর, উজ্জ্বল ও ফয়জুর। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—চান মিয়া, জিয়ার আলী, শাহ আলম, কাওছার, সুমন মিয়া, রিফাত ও গোলাম মোস্তফা।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে শাখাওয়াত ও সোহেল মহর আলী এবং তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাদের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটখেত থেকে পুলিশ দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মহর আলী ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার ভাতিজা স্বপন মিয়া দশম শ্রেণিতে পড়তেন।
এ ঘটনায় স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত। প্রায় এক দশক পর আলোচিত এই জোড়া হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো।
রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে আসামিপক্ষ।
মামলার সাজাপ্রাপ্ত সব আসামি ও বাদীপক্ষ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

































