১৮০ দিনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন

১৮০ দিনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫৮, ২০ আগস্ট ২০২৬

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসেই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় আসনে দৃশ্যমান উন্নয়নের দাবি করা হয়েছে। সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি, বিদ্যুৎ, সেচ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮০ দিনে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর বাইরে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া আরও ২৭টি প্রকল্পের সবগুলো শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে গড় অগ্রগতি প্রায় ৬৪ শতাংশ।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সড়ক, সেতু ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদীয় এলাকায় মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প।

এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট। পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আগের ১৭ বছরেও এত উন্নয়ন হয়নি’

হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন বলেন, গত ছয় মাসে হাটহাজারীতে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আগের ১৭ বছরেও হয়নি।

তার দাবি, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের ফলে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার যানজট কমেছে। পাশাপাশি খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কারণে জলাবদ্ধতাও কমেছে।

তিনি জানান, হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার হাসপাতাল এবং একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

‘১৮০ দিন অল্প, মানুষের দায়িত্ব অনেক বেশি’

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৮০ দিন সময়ের হিসাবে কম হলেও মানুষের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেশি।

তিনি বলেন, মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতির মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা ও স্মার্ট স্ট্রিট লাইট

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি ফি, খতিয়ান, ডিসিআর, মৌজা ম্যাপসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ১৬১২২ হেল্পলাইনের মাধ্যমেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়কটি রাতে আরও আলোকিত ও নিরাপদ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হাটহাজারী পৌরসভায় ব্যাংক বুথ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নাগরিকসেবা সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

৩ লাখ ৬২ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ

সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাটহাজারী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় বড় শ্মশান ঘাটে গভীর নলকূপ স্থাপন এবং রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার

হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারসংলগ্ন মির্জাপুর মৌজায় প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৩ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানায় গরম ও লোডশেডিংয়ের সমস্যা কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ পাইপলাইন নির্মাণ, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল খনন ও নালা পরিষ্কার, সড়ক সংস্কার এবং সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন। পাশাপাশি মসজিদ, সড়ক ও অন্যান্য জনসেবামূলক অবকাঠামোর উন্নয়নকাজও চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় ও নাগরিক অবকাঠামোতে আরও পরিবর্তন আসবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement