আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন
Published : ১০:৫৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবারের উত্তরসূরি জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
জাইমা রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর মাতামহ প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি আইন, জননীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের মতো বিষয়ে আগ্রহের মধ্য দিয়ে নিজের পেশাগত পরিসর বিস্তৃত করেছেন জাইমা। জন্মদিনে শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর পেশাগত জীবনের সাফল্য এবং মানবিক উদ্যোগে আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছেন।
লন্ডনে পড়াশোনা ও ব্যারিস্টারি অর্জন
জাইমা রহমানের শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডনে তাঁর শিক্ষাজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু হয়।
যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি অর্জন করেন জাইমা। এরপর দেশটির ঐতিহ্যবাহী আইনি প্রতিষ্ঠান দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি।
বাংলাদেশেও আইনপেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষার প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হন জাইমা রহমান। তবে এ ধাপে উত্তীর্ণ হওয়া পূর্ণাঙ্গ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সমতুল্য নয়।
আইনপেশায় অভিজ্ঞতা
শিক্ষাজীবন শেষে জাইমা রহমান যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন এবং নীতিবিষয়ক কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেখানে সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং করসংক্রান্ত বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আইন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
জাতিসংঘে নতুন দায়িত্ব
জাইমা রহমানের পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর এই নিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের নির্বাহী দপ্তরের অধীনে কাজ করছেন জাইমা। সেখানে আইনবিষয়ক বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা তাঁর দায়িত্বের অংশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত কর্মকর্তা তালিকায় তাঁর নাম ও পদবি উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ দায়িত্ব আন্তর্জাতিক পরিসরে আইনবিষয়ক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
জন্মদিনে জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সুখ এবং পেশাগত জীবনের আরও সাফল্য কামনা করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা।


































