টাইমের কভারেই কি শেখ হাসিনার পতন

টাইমের কভারেই কি শেখ হাসিনার পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published : ২০:১৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শতবর্ষী টাইম ম্যাগাজিনের কভারে স্থান পাওয়াটা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। কেননা, বিখ্যাত এই সাময়িকীর কভারে জায়গা পেলে সেলিব্রেটির মর্যাদা পাওয়ার পাশাপাশি, অনেকের নজর কাড়া সম্ভব। এর অন্যতম কারণ, এটি বিশ্বের সবচেয়ে স্বনামধন্য এবং সবচেয়ে বহুল পঠিত ম্যাগাজিনগুলোর একটি। তবে এই টাইম ম্যাগাজিনকে ঘিরেই রয়েছে রহস্যময় এক অভিশাপ।

বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িকীর কাভার স্টোরিতে স্থান করে নিলেই শুরু হয় অধঃপতন! বাস্তবে এমন কিছু নজির থাকায় এ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও বেশ ডালপালা মেলেছে।

অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস টাইম ম্যাগাজিনের কভারে ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ২০০৭ সালে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে ১৯৮৫ সালে হঠাৎ করে অ্যাপল থেকে স্টিভ জবসকে বের করে দেওয়া হয়। তার প্রতিষ্ঠান নেক্সটেরও পতন ঘটে।

২০১০ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ টাইমসের কভারে আসেন। এর কয়েক বছর থেকেই ফেসবুকের খারাপ সময় শুরু হয়। সেই তালিকায় রয়েছ ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিতর্কের মতো বিষয়ও। ফেসবুককে সেই ধাক্কা এখনো সামাল দিতে হচ্ছে।

২০২১ সালে আর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ককে নিয়ে কভার নিউজ করে টাইম। এর কয়েক মাস পর, নজর লাগে টেসলার ওপর। শুরু হয় শেয়ার পতন।

টাইমের কভারে জন এফ কেনেডি থেকে শুরু করে আইজাক রবিন, বেনজির ভুট্টো, আনোয়ার সাদাত, মাহাত্মা গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী, রাফিক হারিরি, বারলুসকোনি, মুয়াম্মার গাদ্দাফি, সাদ্দাম হোসেনসহ এমন অসংখ্য রাষ্ট্রপ্রধানের ঠাঁই হয়েছিল। শেষপর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা কারো অজানা নয়।

বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীও টাইম ম্যাগাজিনের কভারে এসেছিলেন। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া টাইমের কভারে আসার পর থেকে আর ক্ষমতায়ই আসতে পারেননি। ২০২৩ সালে হার্ড পাওয়ার শিরোনামে শেখ হাসিনাও টাইম ম্যাগাজিনের কভারে এসেছিলেন।

শেখ হাসিনা টাইম ম্যাগাজিনের কভারে আসার বছর ঘোরার আগেই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পারিয়ে ভারতে যেতে হয়েছে। তাই অনেকেই বলছেন, তবে কী টাইমের কভারেই কপাল পুড়ল শেখ হাসিনার?

বিডি/এন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement