এ্যানিকে ঘিরে বিতর্কে কড়া জবাব দিল বিএনপি
Published : ০৪:০৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লক্ষ্মীপুর–৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির গাড়িতে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নয়; বরং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের খরচ পরিশোধের জন্যই ওই টাকা নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার জন্য বিএনপি বহু বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। এ আন্দোলনে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টেও বহু সাথী ও তাদের সন্তানরা প্রাণ হারিয়েছেন। আগামীকাল ভোর সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে যারা যুক্ত ছিলেন, মূলত তারাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন—এটাই ছিল প্রত্যাশা।
দলের নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই যেন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেন, সেই আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা সবারই থাকে, কিন্তু তা পূরণ করতে গিয়ে অনৈতিক বা বেআইনি পথ বেছে নেওয়া কাম্য নয়। দুঃখজনকভাবে, সারাদিনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য তাদের হতাশ করেছে।
প্রায় ১২৭টি অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, আরও অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলো সব দেখা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এক জামায়াত নেতার কাছ থেকে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই দলের পক্ষ থেকে এটিকে ব্যবসার টাকা বলা হলেও গণমাধ্যমের তথ্যমতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যবসায়ী নন।
আয়কর নথি অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় মাত্র চার লাখ টাকার কিছু বেশি। নৈতিকতার কথা বলা দলের নেতার এমন আচরণ দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচ লাখ বা পাঁচ কোটি টাকা বহন করা কোনো ইস্যু নয়—এমন বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইসি সচিব এসব কথা বিএনপির প্রতিনিধি দলের সামনেই বলেছেন এবং গণমাধ্যমেও একই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান নজরুল ইসলাম খান।
এর আগে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়িতে পাওয়া টাকাগুলো বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের এজেন্টদের খরচ মেটানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, উদ্ধার করা টাকা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষায়, নির্বাচনী এজেন্ট গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন,
সেই গাড়িতে থাকা ব্যাগে কেন্দ্রভিত্তিক খরচ দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা ছিল। কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের পর আদালতের মাধ্যমে টাকা ছাড়ও দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এ্যানি আরও বলেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিডি/এএন



























