আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন, ওসিকে রুমিন ফারহানা
Published : ১২:৪১, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং সৌজন্যমূলক আচরণ না করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও বিভিন্ন ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে রুমিন ফারহানাকে ওসিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ এ সময় থানার বাইরে তাঁর সমর্থকদের ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
রুমিন ফারহানার অভিযোগ, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়েও সরাইলে তা পাননি। তাঁর দাবি, বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে দেওয়া হয়নি। নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থানীয় এলাকায় নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা না পাওয়ায় স্থানীয় লোকজনই তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।
ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেন সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ এবং কোনো ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ে কথা বলতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে থানায় আসেন এবং তাঁর কার্যালয়ে অনেক লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তাঁর দাবি, কয়েকজনকে দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়ার অভিযোগের জবাবে ওসি বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কোনো দাওয়াতে যান না। কেবল সরকারি অনুষ্ঠানে, যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন, সেখানে অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগকারী ব্যক্তি কে, তা তাঁর মনে নেই এবং আসামিদের গ্রেপ্তার, হাজতে পাঠানো ও আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই পরিচালনা করেন।
ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, এলাকাটি হাওরাঞ্চল হওয়ায় অনেক ইটভাটা পানির নিচে থাকে। এ অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেন তোলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওসি জানান, থানা এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করা যেতে পারে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তাঁর অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন এবং বাইরে মিছিল করেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো সংগঠনের লোকজন সেখানে ছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান। তবে তাঁর দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেপ্তার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাঁকে প্রায়ই চাপ দেন।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।’
ঘটনার সময় রুমিন ফারহানার সমর্থকদের সঙ্গে ওসির তর্ক হয়। কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি। এদিকে থানার বাইরে কয়েক শ মানুষকে তাঁর পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

































