গুড়পুকুরের মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি আব্দুল খালেকের প্রতিবাদ

গুড়পুকুরের মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি আব্দুল খালেকের প্রতিবাদ ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

Published : ১৮:৫১, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক। মেলার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল খালেক এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় লুটতরাজ, হত্যা, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিক থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

আব্দুল খালেক বলেন, মেলার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবি ও দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সাতক্ষীরার যানজট, বিদ্যুৎ ও পানিসংকটের মতো জনদুর্ভোগ নিরসনের পাশাপাশি কালোবাজারি, লুটতরাজ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান প্রয়োজন। মদ ও মাদকের বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে অভিযান চালিয়ে জনজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায়, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সরকারি রাজস্বের হিসাব নিয়ে এনপিবি নিউজে দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনগুলোতে মেলা থেকে বিপুল অর্থ আদায়, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের রাজস্ব না পাওয়া এবং আয়-ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে ঘিরে ২২ দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে আদায় করা অর্থের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন মেলা থেকে রাজস্ব না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু অর্থ আদায় ও ব্যয়ের বিষয়ে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই বলে জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে মেলার অর্থ কারা আদায় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং আদায় করা অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেলার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অর্থ আদায় ও লেনদেনের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement