ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:০৭, ২৬ আগস্ট ২০২৬

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।

বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি রয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, দয়া, সহমর্মিতা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।

মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণকারী মহানবী (সা.) শৈশবেই পিতা-মাতাকে হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর সততা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্রের কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ হিসেবে অভিহিত করতেন।

চল্লিশ বছর বয়সে হেরা গুহায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এরপর প্রায় ২৩ বছর তিনি মানুষকে তাওহিদ, ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। মক্কার জীবনে নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে ন্যায়, সহাবস্থান, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

মহানবী (সা.) এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সততা, দায়িত্ববোধ, ক্ষমাশীলতা ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মাহফিল, সেমিনার, আলোচনা সভা, কবিতাপাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি বইমেলারও আয়োজন রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগেও মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম, শিক্ষা ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement