বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আগেই থামলেন সোমালি রেফারি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আগেই থামলেন সোমালি রেফারি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা রেফারি ওমর আরতান - ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৪৪, ৯ জুন ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিলেন আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফুটবল রেফারি ওমর আরতান। কিন্তু বিমানবন্দর থেকেই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ফলে বিশ্বকাপের আসরে প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

গত শনিবার দক্ষিণ ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাকে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে।’ তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ফিফার ঘোষিত ৫২ জন বিশ্বকাপ রেফারির তালিকায় থাকা আরতান বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম সোমালি রেফারি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। তার এই যাত্রা সোমালিয়ার ফুটবল ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সোমালিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যও সোমালি জনগোষ্ঠী নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

শুধু আরতানই নন, চলমান বিশ্বকাপ ঘিরে ভিসা জটিলতায় পড়েছে ইরানের জাতীয় দলও। দলটির খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও অবস্থান করতে হচ্ছে মেক্সিকোতে। এছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো মার্কিন ভিসা পাননি।

এদিকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘অভিবাসীদের ছাড়া ফুটবলের ইতিহাস কল্পনা করা যায় না। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মী ও সমর্থক—সব ক্ষেত্রেই তাদের অবদান অপরিসীম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব যখন আমাদের শহরে আসছে, তখন আমরা আমাদের অভিবাসী প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াব। ভয়ভীতি ও বিভাজনের রাজনীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে মোগাদিশুতে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর আরতান বলেছিলেন, যুদ্ধ ও অস্থিরতায় জর্জরিত সোমালিয়া থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া তার জন্য ছিল গর্ব ও সম্মানের বিষয়।

সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘রেফারি হিসেবে কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না। একটি লক্ষ্য স্থির করতে হয় এবং সেটি অর্জনের জন্য লড়ে যেতে হয়। আমার জন্যও পথটা সহজ ছিল না।’

শেয়ার করুনঃ
Advertisement