এআইয়ের দাপটে র‍্যামের বাজারে সংকট, দেড় বছরে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ

এআইয়ের দাপটে র‍্যামের বাজারে সংকট, দেড় বছরে দাম বেড়েছে কয়েক গুণ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:১৩, ২০ আগস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে সাধারণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ওপর। এআই ডাটা সেন্টারের বিপুল মেমোরি চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে র‍্যামের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত দেড় বছরে কিছু ধরনের র‍্যামের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা পরিস্থিতিটিকে ‘র‍্যামপোক্যালিপস’ (RAMpocalypse) হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের আশঙ্কা, এআই অবকাঠামোর চাহিদা অব্যাহত থাকলে মেমোরির বাজারে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

১৬ জিবি র‍্যামের দাম ছাড়িয়েছে ৪০০ ডলার

পিসিপার্টপিকার-এর বাজার উপাত্ত অনুযায়ী, সাধারণ পিসি ও ল্যাপটপে ব্যবহৃত ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

২০২৫ সালের শুরুতে ১৬ জিবি (২×৮ জিবি) ডিডিআর৫ র‍্যামের একটি কিটের দাম ১০০ ডলারের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ৪০০ ডলারের বেশি। একই সময়ে ৩২ জিবি ডিডিআর৫ র‍্যামের দাম প্রায় ২৫০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে শুধু র‍্যাম কিনতেই একটি ভালো মানের নতুন ল্যাপটপের কাছাকাছি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

কেন বাড়ছে র‍্যামের দাম?

বিশ্বের মেমোরি চিপ উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রনের মতো প্রতিষ্ঠান।

সাধারণ কম্পিউটারে ব্যবহৃত ডিআরএএম এবং এআই ডাটা সেন্টারের জিপিইউতে ব্যবহৃত হাই ব্যান্ডউইডথ মেমোরি (এইচবিএম) একই ধরনের সিলিকন ওয়েফার উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।

মাইক্রনের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় মেহরোত্রার ভাষ্য অনুযায়ী, একই পরিমাণ মেমোরি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাধারণ ডিডিআর৫-এর তুলনায় একটি এইচবিএম ইউনিট তৈরিতে প্রায় তিন গুণ ওয়েফার প্রয়োজন হয়।

এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিশাল ডাটা সেন্টারে হাজার হাজার এমনকি লাখো জিপিইউ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মেমোরি নির্মাতারা বেশি চাহিদাসম্পন্ন ও লাভজনক এইচবিএম উৎপাদনে কারখানার সক্ষমতার বড় অংশ বরাদ্দ করছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ডিআরএএমের সরবরাহে।

২০২৭ সালে সংকট আরও বাড়তে পারে

মেমোরি বাজারের বর্তমান সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনাও কম। এসকে হাইনিক্সের প্রধান নির্বাহী কোয়াক নোহ-জুংয়ের মতে, ২০২৭ সালে মেমোরির চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। এমনকি এর প্রভাব ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেলিটের পূর্বাভাসেও দশকের শেষ হওয়ার আগে মেমোরি বাজারে বড় ধরনের ভারসাম্য ফিরে আসার সম্ভাবনা সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর অন্যতম কারণ নতুন মেমোরি কারখানা স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। এসকে হাইনিক্স দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ৩৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে দুটি নতুন কারখানা নির্মাণ করছে। তবে এসব স্থাপনায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ভোক্তাদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

র‍্যামের দাম বাড়তে থাকলে নতুন কম্পিউটার ও ল্যাপটপের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো ডিভাইসের মেমোরি আপগ্রেড করতে চাওয়া ব্যবহারকারীদেরও আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

তবে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত র‍্যাম কিনে মজুত না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যাদের আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মেমোরি আপগ্রেড করার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগেভাগেই পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement