ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি জুয়া ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রির দাবি, বড় সাইবার ঝুঁকি
Published : ১০:৪৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখে অ্যাপ ডাউনলোড করে খেলা শুরু করেছিলেন ‘রাকিব’ (ছদ্মনাম)। তিনি জানতেন না, জুয়ার প্ল্যাটফর্মে দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য একসময় সাইবার অপরাধীদের হাতে পৌঁছে বিক্রির পণ্যে পরিণত হতে পারে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবহারকারীর তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হ্যাকারদের প্রকাশ করা স্যাম্পল এক্সেল ফাইলে থাকা একাধিক বাংলাদেশির ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করে বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ডার্ক ওয়েবে ‘নেফেক্স৭৮’ এবং টেলিগ্রামভিত্তিক ‘নেফেক্স দ্য ব্ল্যাকহ্যাট’ নামে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ডাটাবেজটি ২০২৫-২০২৬ সালের বাংলাদেশি অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবহারকারীদের বলে দাবি করা হয়েছে। এতে আইডি, ইউজারনেম, প্লেয়ার আইডি, ভিআইপি লেভেল, নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ, রেফারেল ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডাটাবেজে সর্বশেষ ডিপোজিট, কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস, কেওয়াইসি রিমার্ক এবং ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। পুরো ডাটাসেটের দাম চাওয়া হয়েছে ৭৮০ মার্কিন ডলার। অর্থ পরিশোধে বিটকয়েন বা মনেরো ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
হ্যাকারদের দেওয়া বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপের তালিকা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্ল্যাটফর্ম থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্য বেহাত হয়ে থাকতে পারে। তবে কোন প্ল্যাটফর্ম, এজেন্ট বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ ও র্যাব জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ডিএমপির সাইবার বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে। র্যাবও বলেছে, তাদের সাইবার টিম এ ধরনের বিষয়ে নিয়মিত কাজ করে।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, স্যাম্পল তথ্য যাচাই করে বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। তার মতে, ফাঁস হওয়া মোবাইল নম্বর, ইমেইল, জন্মতারিখ, আইপি, ডিভাইস ও কেওয়াইসি তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় চুরি, ফিশিং, অ্যাকাউন্ট দখল, আর্থিক প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা হতে পারে।
তিনি অনলাইন জুয়া বা সন্দেহজনক প্ল্যাটফর্মে তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ও দুই স্তরের নিরাপত্তা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন নজরে রাখা এবং অপরিচিত লিংক, অ্যাপ, অফার বা OTP-পিন কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

































