এনআইডি-পাসপোর্টসহ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস, ৩ বছরে ৬৮ ঘটনা শনাক্ত
Published : ১৯:০৯, ২৩ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কল রেকর্ড ও ব্যাংক হিসাবসহ নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের অন্তত ৬৮টি ঘটনা গত তিন বছরে ঘটেছে বলে জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অধিকাংশ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেরা আগে থেকে নিরাপত্তা লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারেনি।
‘ব্রিচড অ্যান্ড আনআনসার্ড: বাংলাদেশ’স ডেটা ব্রিচ এপিডেমিক (২০২৩–২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৩৬টি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৩২টি ঘটনা ঘটেছে।
বছরভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে সাতটি, ২০২৪ সালে ২৭টি, ২০২৫ সালে ১৪টি এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ২০টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ২০ ঘটনার মধ্যে ১৩টি সরকারি এবং সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
টিজিআই বলেছে, সরকারি সেবা ও ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি ২০টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি কোম্পানি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১৬টি, নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্ট পাঁচটি, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি, সশস্ত্র বাহিনীতে তিনটি এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে তিনটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশপ্রধান ফৌজিয়া আফরোজ বলেন, নাগরিকের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে বিদ্যমান কাঠামো, আইন ও জবাবদিহির সীমাবদ্ধতার কারণে তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ তথ্য ফাঁসের ঘটনা বাইরের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক, ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও সক্রিয় হুমকি শনাক্তের সক্ষমতা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, অতীতে সরকারি পোর্টালের হোস্টিং ব্যবস্থায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। তিনি দক্ষ কারিগরি জনবলের ঘাটতিকেও তথ্য নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
টিজিআইয়ের মতে, দেশের অধিকাংশ তথ্য ফাঁস অত্যাধুনিক সাইবার হামলার ফল নয়; বরং দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি, নিরাপত্তা তদারকির অভাব ও নিয়মিত সাইবার অডিট না হওয়ার কারণে এসব ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

































