জ্বালানি আমদানিতে সরবরাহ নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ
Published : ১৩:৪৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে। এ আমদানি প্রক্রিয়ায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ লাখ ১০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব আমদানিতে ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি রয়েছে।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, পণ্যের গুণগত মান, সরবরাহ সক্ষমতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা, পরিবহন, বীমা, জাহাজভাড়া এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রিমিয়ামসহ দর প্রস্তাব নেওয়া হয়।
জুন-আগস্ট মেয়াদের একটি দরপত্রে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে ৯ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১১ লাখ ৫০ হাজার টন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি।
পিজি-১ প্যাকেজে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
পিজি-২ প্যাকেজে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন ডিজেল এবং ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া পিজি-৩ প্যাকেজে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টন ফার্নেস অয়েল এবং পিজি-৪ প্যাকেজে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
জ্বালানি আমদানির ব্যয় নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদরের পাশাপাশি পরিবহন ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় ও প্রিমিয়ামে পরিবর্তন এসেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের উন্মুক্ত দরপত্রে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরবরাহকারীর প্রিমিয়াম ছিল তুলনামূলকভাবে কম। পরবর্তী জুন-আগস্ট মেয়াদের দরপত্রে আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে কয়েকটি পণ্যের প্রিমিয়ামও বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর মধ্যে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরবরাহের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে সরবরাহকারীদের সক্ষমতা, পণ্যের মান, সরবরাহের সময়সূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিকল্প উৎস প্রস্তুত রাখাও জরুরি।
দেশের শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ পরিকল্পনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
































