নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

নোবিপ্রবিতে হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ছবি: সংগৃহীত

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

Published : ১১:৩২, ১৮ আগস্ট ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালান। তাকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেট এলাকায় চলে যান।

পরে পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলা করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত অভিযোগ করেন, সিট নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালান। হামলায় ফিশারিজ বিভাগের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্স বিভাগের তানভীর ভূঁইয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, একটি সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হলেও পরে বিষয়টির সমাধান হয়ে যায়। সবাই চলে যাওয়ার পর ছাত্রদলের এক নেতার ওপর হামলা চালানো হয়। তার দাবি, এ ঘটনা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পরে বক্তব্য দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। হলের প্রভোস্ট বডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রক্টরিয়াল বডির সভা ডাকা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement