এক পাশে রং, অন্য পাশে মলিন—চট্টগ্রামের সড়ক নিয়ে আলোচনা

এক পাশে রং, অন্য পাশে মলিন—চট্টগ্রামের সড়ক নিয়ে আলোচনা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:৫৭, ১০ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের ডিভাইডারের এক পাশে রং করা হলেও অপর পাশ ছিল মলিন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে সোমবার সকাল থেকে ডিভাইডারের অপর পাশেও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

রোববার চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সড়কপথে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি হোটেলে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভায় যোগ দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সড়কের পাশটিই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং ডিভাইডারে রং লাগানো হয়। বিপরীত পাশে একই ধরনের কাজ করা হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকাল থেকে অপর পাশের ডিভাইডারেও রং করার কাজ শুরু হতে দেখা যায়।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটহাজারী থেকে অক্সিজেনমুখী সড়কের এক পাশ তুলনামূলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ওই পাশের ডিভাইডারজুড়ে রং করা হয়েছে। বিপরীত পাশে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে এবং ডিভাইডারও রংহীন। তবে অক্সিজেন এলাকা থেকে অপর পাশের ডিভাইডারে রং করার কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকেরা।

চৌধুরী হাট এলাকার বাসিন্দা কাজী নুরুল আজম বলেন, তিনি নিয়মিত অক্সিজেন থেকে চৌধুরী হাটে যাতায়াত করেন। রোববার সড়কে গিয়ে ডিভাইডারের এক পাশে রং করা এবং অন্য পাশে রং না করার বিষয়টি তার নজরে আসে। দুই পাশেই একইভাবে রং করা হলে সড়কটি আরও সুন্দর দেখাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বালুচরা এলাকার বাসিন্দা মনসুর আলমের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত পাশটিতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ বেশি গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে। কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বিভাগের উপসহকারী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের দুই থেকে তিন দিন আগেই সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে একসঙ্গে দুই পাশে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই ডিভাইডারের উভয় পাশে রং করার পরিকল্পনা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে অপর পাশের কাজ শুরুর কোনো সম্পর্ক নেই। সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খাতের অর্থ থেকেই কাজটি করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে ব্যয়ের সঠিক হিসাব জানা যাবে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এত দিন ডিভাইডারের উভয় পাশে রং করা সম্ভব হয়নি বলে কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে অপর পাশেও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আগে থেকেই চলমান। প্রায় এক মাস আগে সড়কের পাশের জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। এরপর ব্রিজ-কালভার্ট পরিষ্কারসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিভাইডারে রং করাও সেই চলমান কাজের অংশ। আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কে বিভিন্ন কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে কাজ শুরু হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement