সিরাজগঞ্জে ফিরছে পাটের সুদিন, চাষে কৃষকের নতুন আগ্রহ
Published : ০৯:৩০, ১০ আগস্ট ২০২৬
একসময় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের অনেক কৃষক। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে জেলায় আবারও বাড়ছে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ।
ফলে জেলার বিভিন্ন মাঠে এখন দেখা মিলছে পাটের সবুজ সমারোহের। খাল-বিল ও জলাশয়ে চলছে পাট জাগ দেওয়ার চিরচেনা কর্মযজ্ঞ। নতুন পাটের বেচাকেনায় জমে উঠেছে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারও। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।
বর্তমানে জেলার বাজারগুলোতে প্রতি মণ মেস্তা পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৯০০ টাকায়। আর তোষা পাটের দাম রয়েছে প্রতি মণ ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বাজারদর কৃষকদের জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ১৪ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। দেশি, তোষা, মেস্তা, কেনাফ, জেআরও-৫২৪, সবুজ সোনা ও বারি-১সহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে।
এ বছর জেলায় পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। গড়ে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদন হলেও কিছু এলাকায় ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। বাজারে ভালো দাম থাকায় অধিকাংশ কৃষক উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সন্তোষজনক মুনাফা করতে পারছেন।
বিশেষ করে শাহজাদপুর ও চলনবিলের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর আবারও পাট চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এসব এলাকায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটচাষিরা। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে জাগ দেওয়া, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে তা শুকানোর কাজ চলছে। খাল-বিল, নদী ও প্লাবনভূমিতে সারি সারি জাগ দেওয়া পাট গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্যকে যেন আবারও ফিরিয়ে এনেছে।
কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশা গ্রামের কৃষক মাহিদুল ইসলাম বলেন, একসময় পাটের দাম না থাকায় তারা চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের উৎসাহে আবার পাট আবাদ করেছেন। এবার ফলনও ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি পাটগাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫ মণ পাট পাওয়া গেছে। বাজারে ভালো দাম থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভও হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী এলাকার পাট ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, এ বছর পাটের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি এসে পাট কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের কারণে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারমূল্য সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জে পাট চাষ আরও সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।































