রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ ডিএমপির

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ ডিএমপির ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৮:৫৩, ২১ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোনের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ড্রোনে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি যুক্ত করে ভিডিওর ভিত্তিতে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সম্প্রতি ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও অনেক সময় যানজট তৈরি হয়। কিন্তু এর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করা গেলে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থাও থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী কিংবা যানজট সৃষ্টি করা যানবাহনকে সরাসরি সতর্ক করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে তাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ড্রোনে এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা হলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভিডিওর মাধ্যমে মামলা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি ডিএমপি। প্রথমে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এরপর মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আনিছুর রহমান বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম তথ্য পেতে প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট, সার্ভার ও অন্যান্য অবকাঠামো দরকার। এসব ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ও রয়েছে।

বাসের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের বড় কারণ

ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বাসগুলোর নির্ধারিত স্টপেজে না থামার বিষয়টি উল্লেখ করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। তাঁর মতে, যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক বাস নির্ধারিত জায়গার বাইরে দাঁড়িয়ে পুরো সড়কে যানজট সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস চলাচল নিয়ন্ত্রিত হলেও বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস রুট রেশনালাইজেশন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যানজটের ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো কঠিন।

ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শুরু

ড্রোন পরিচালনার জন্য ডিএমপির সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের একটি দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

আনিছুর রহমান জানান, একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে। সেটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে।

এর আগে রাজধানীর ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডের একটি সিগন্যাল এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য বেশি মামলা দেওয়া নয়; বরং মানুষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত করা। ড্রোন ব্যবস্থার পরীক্ষায় কোনো নেতিবাচক দিক পাওয়া গেলে তা চালু করা হবে না।

সূত্র: বাসস

শেয়ার করুনঃ
Advertisement