শতকোটি টাকার ফসল রক্ষার পাম্প হাউসই এখন কৃষকের গলার কাঁটা

শতকোটি টাকার ফসল রক্ষার পাম্প হাউসই এখন কৃষকের গলার কাঁটা কাশিমপুর পাম্প হাউস। ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি নিউজ, মৌলভীবাজার

Published : ০৯:০১, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাম্প নিয়মিত চালু না থাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে অন্তত ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং পাকা আউশ ধানসহ মৎস্য খামার ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করছেন।

মনু সেচ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাশিমপুর পাম্প হাউসের মাধ্যমে হাওরের পানির প্রবাহ ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। এতে সহস্রাধিক কৃষক পরিবার উদ্বেগে রয়েছে।

কৃষকদের একাংশের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মচারী ও ঘের ইজারাদারদের মধ্যে যোগসাজশের কারণে পাম্প পরিচালনায় অনিয়ম হচ্ছে। তাদের দাবি, মাছের ঘেরে পানি ধরে রাখার স্বার্থে পাম্প পুরোপুরি চালু রাখা হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

কান্দিগাঁও গ্রামের কৃষক শেখ আহবাবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রেখে ঘের ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। অন্য কৃষকরা জানান, আউশ ধান কোমরসমান পানিতে তলিয়ে আছে এবং পানি না কমায় আমনের বীজতলা রোপণ করা যাচ্ছে না।

তাদের মতে, পাম্প চালিয়ে পানি দুই থেকে আড়াই ফুট কমানো গেলে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টন ধান উৎপাদন সম্ভব হতো।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকা নিয়ে গঠিত কাউয়াদীঘি হাওর জেলার গুরুত্বপূর্ণ শস্যভান্ডার। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি কুশিয়ারা নদীতে নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালে রাজনগরের কাশিমপুরে আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পসহ পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সরেজমিনে আউশ ধান পানিতে তলিয়ে থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পানি নিষ্কাশন এবং আমন চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, হাওরে পানির উচ্চতা বর্তমানে ৮ দশমিক ৬০ মিটার, যা সাড়ে ৮ মিটার থাকার কথা। তিনি জানান, বর্তমান পাম্প সক্ষমতায় বৃষ্টিহীন অবস্থাতেও পানি দুই ফুট কমাতে অন্তত ৪০ দিন লাগবে এবং এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement