মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট: কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট: কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

Published : ১১:১১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে' মধ্যরাতে এক সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত এই তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। এই হামলার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার হাজার হাজার শিশুর টিকাদান ও দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জনের একটি মুখোশধারী দল জোরপূর্বক কেন্দ্রে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা দায়িত্বরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ফেলেন। এরপর ভেতরে ঢুকে শুরু হয় নির্বিচারে ভাঙচুর ও লুটপাট।

লুটপাটের পাশাপাশি হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর সেখানে ‘সম্মাননা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যার নেপথ্যে জমি দখলের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, এই হামলায় আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা যা যা লুট করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন।

সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও জরুরি নথি।

জেনারেটর, ৩টি ফ্রিজ, ৩টি এসি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা।

ল্যাবরেটরির বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম, রিএজেন্ট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার।

গত ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ভবন ও চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আকস্মিকভাবেই সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে, নির্ধারিত সরকারি হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এই হামলার কারণে তা পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় হানিফ মিয়া নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি প্রদান এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

 
শেয়ার করুনঃ
Advertisement