‘পশ্চিমকে খুশি করতে আদর্শ বিসর্জন’—সাদিক কায়েমকে নিয়ে মাদানীর সমালোচনা
Published : ১১:৫৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ভিপি সাদিক কায়েমকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে ফের নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সাদিক কায়েমের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মাদানীর অভিযোগ, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টায় ইসলামপন্থীদের একটি অংশ তাদের আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাদিক কায়েমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের পরও তার বক্তব্যের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে।
নিজের পোস্টে মাদানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের খেলাধুলা করা নিয়ে তাঁর মূল আপত্তি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হয় এবং ছাত্রীদের অংশগ্রহণও নতুন কোনো বিষয় নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তাঁর প্রশ্ন, ইসলামি ভাবধারার সংগঠনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কেউ যদি এমন একটি ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন, যেখানে নারী শিক্ষার্থীরা তাঁর দৃষ্টিতে ‘অশালীন’ পোশাকে খেলছেন, তাহলে বিষয়টি কীভাবে দেখা উচিত।
মাদানীর ভাষ্য, ওই আয়োজনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেওয়া এবং একজন আয়োজকের প্রশংসায় করতালি দিতে বলা নিয়েই তাঁর মূল আপত্তি। আগের একটি পোস্টেও তিনি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন এবং এ বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সোমবারের পোস্টে মাদানী আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ইসলামপন্থীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের ‘মডারেট’ ও ‘প্রগতিশীল’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।
তিনি এ প্রবণতার সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের তুলনাও টানেন। তাঁর দাবি, আগামী এক থেকে দুই বছরে ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও বাড়তে পারে।
তবে এসব মন্তব্য মাদানীর নিজস্ব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যায়ন; পোস্টে তিনি তাঁর অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
পোস্টের শেষ দিকে মাদানী সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে সমালোচিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ক্ষমা গ্রহণের বিষয়টি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সাদিক কায়েমের কিছু কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করার কথাও জানিয়েছিলেন মাদানী। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও পানি সরবরাহের মতো কিছু উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তাঁর কাছে আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে।


































