অপ্রতিম হত্যার জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অপ্রতিম হত্যার জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১১:৩৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পেছনে তার আইফোন দখল করে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল বলে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির বক্তব্যে এ বিষয়ে প্রায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, আইফোনের প্রতি লোভ থেকেই অপ্রতিমকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরে ফোনটি বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল।

ঘটনার দিন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের দেখা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাকে কথার ফাঁদে ফেলে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তুহিন ওই এলাকাকে তার চাচা শাহ আলমের পাহাড়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মামলার অপর দুই কিশোরের জবানবন্দিতেও ঘটনার আগের সময়ের প্রায় একই ধরনের বিবরণ পাওয়া গেছে। তাদের একজন জানায়, দুপুরের পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। পরে সে আরেক বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে যায়। যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানানো হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য কিশোরটি জানায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই সে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। বিকেল ৪টার পর তারা পাহাড়ে পৌঁছে অপ্রতিম ও তুহিনকে সেখানে বসে থাকতে দেখে।

তিন জবানবন্দিতেই বলা হয়েছে, চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা দেয়। পরে অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোনটি নেওয়া হয়।

এক কিশোরের বক্তব্য অনুযায়ী, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেন। কিছুক্ষণ ফোনটি ব্যবহারের পর সে সেটি তুহিনের হাতে তুলে দেয়। তুহিনের জবানবন্দিতেও ফোনটি তার হাতে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এরপর আইফোন ফেরত নেওয়া নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম ফোনটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

তিন আসামির বক্তব্যে প্রথম আঘাতের বিষয়েও মিল রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন। পরে পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর অন্য দুজনকেও মারধরে অংশ নিতে বলা হয়।

অপর দুই কিশোরের জবানবন্দিতেও তুহিনের হাতে প্রথম আঘাত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একজনের ভাষ্য, তুহিন ও অপ্রতিমের মধ্যে ঝগড়ার পর তিনি কোদালের হাতল দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। অন্য কিশোরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে।

হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তিন জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। তুহিনের বক্তব্যে আইফোনের প্রতি তাদের লোভের কথা উঠে এসেছে। অপর এক কিশোরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ফোনটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের একটি অংশ তাকে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তৃতীয় কিশোরের বক্তব্যেও ফোন বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর আসামিরা কে কোন পথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, সে বিষয়ে জবানবন্দিগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে তিনজনের বক্তব্যেই একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—অপ্রতিমের আইফোনটি শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল।

১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেওয়া এসব জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনাক্রম এবং লুটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement