নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, বরগুনার দুই যাত্রী হাসপাতালে
Published : ১৫:১৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬
নাটোরের বড়াইগ্রামে বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে ‘আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বরগুনা থেকে বাসটিতে ওঠা দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই বাসে থাকা বরগুনার আরেক নারী যাত্রীর খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় বরগুনা থেকে যাওয়া কোনো যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আহত দুই যাত্রী হলেন বরগুনার কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক একেএম ফজলুল হক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার মো. জুলফিকর। অন্যদিকে, বরগুনা থেকে বাসে ওঠা এক নারী যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় বাসটি। বরগুনা পৌর বাসটার্মিনাল থেকে ১০ জন যাত্রী বাসে ওঠেন। পরে বরিশাল থেকে একজন, সুবিদখালী থেকে তিনজন এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা কাউন্টার থেকে আরও তিনজন যাত্রী ওঠেন। তাঁদের অধিকাংশেরই মাগুরা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় নেমে যাওয়ার কথা ছিল। বরগুনা থেকে ওঠা তিন যাত্রী রাজশাহীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ফজলুল হক ও জুলফিকর বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত ফজলুল হকের স্ত্রী মোসা. লাভলী মোবাইল ফোনে জানান, তাঁদের বাড়ি রাজশাহীতে। তাঁর স্বামী বরগুনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে বাসে যাত্রা করেছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে এবং চোখের অবস্থাও ভালো নয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে সিটি স্ক্যান করাতে বলেছেন। পরীক্ষার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও জানা যাবে বলে জানান লাভলী।
আহত যাত্রী জুলফিকরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তাঁদের বাসা নাটোরে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তাঁর বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি কথা বলতে পারছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকেও সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
আরপি স্পেশাল নাইস পরিবহনের বরগুনা কাউন্টারের ইনচার্জ সুব্রত জানান, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বাসটি বরগুনা ছেড়ে যায়। পরে বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পান তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, বাসের চালক ও হেলপার নিহত হলেও বরগুনা থেকে ওঠা কোনো যাত্রীর মৃত্যুর খবর তাঁরা পাননি। তবে ওই বাসে থাকা বরগুনার দুই যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।































