উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাইয়ে দুদকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
Published : ০১:৩৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দুদক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
দুদক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সম্পদসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একইভাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেটিও নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং বিল পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে অনিয়মের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব।
সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রশাসনিক নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন, প্রতিষ্ঠান ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একইভাবে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনকালে বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুসারে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করাই হতে পারে তদন্তের মূল বিষয়।
সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ আরও কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে প্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতে পৃথকভাবে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা কোনো বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। অভিযোগের ভিত্তি, তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিই হওয়া উচিত তদন্তের প্রধান ভিত্তি।
দুদকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে কাউকে দায়ী না করাও ন্যায়বিচারের অংশ।
তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান। এর মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম থাকলে তা শনাক্ত করার পাশাপাশি ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।


































