ওবায়দুল কাদেরের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে, ছয় সমন্বয়ক নিয়ে কী বলেছিলেন হারুন
Published : ১৪:৩৭, ১২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ওবায়দুল কাদেরের কয়েকটি ফোনালাপের বিষয়বস্তু আদালতে তুলে ধরা হয়।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনের একটি অডিওর বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।
আদালতে উপস্থাপিত ফোনালাপের শুরুতে ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কের খাবারের টেবিলের ছবি প্রকাশের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শোনা যায় ওবায়দুল কাদেরকে। তিনি জানতে চান, কেন তাদের খাবারের ছবি বাইরে প্রকাশ করা হয়েছিল।
ফোনালাপে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশীদ দাবি করেন, ছয় সমন্বয়ককে খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নেওয়া হয়েছিল। ছবি প্রকাশের বিষয়েও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন।
কথোপকথনে ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। হারুন-অর-রশীদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় নিয়মিত বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করতেন।
ফোনালাপে নিজের বদলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেও শোনা যায় তৎকালীন ডিবি প্রধানকে। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশের বাইরে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।
একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়গুলো স্বীকার করছে না। জবাবে হারুন-অর-রশীদ তাকে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানতে বলার অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে এই ফোনালাপসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।


































