সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিশ, আটক করা হয়েছে খুনিকেও

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিশ, আটক করা হয়েছে খুনিকেও ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৫২, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল তিনজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কর্মকর্তারা জানান, নিহত তিনজন হলেন আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (২০)। বুধবার সকালে নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলায় তাদের ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাবুল ওই বাসায় রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। এ সুবাদে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে রান্নাঘরে তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও বাবুলের ধস্তাধস্তি হয় এবং তাকেও হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাসার বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় তার শরীর ও পোশাকে রক্ত লেগে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে রক্ত পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে এবং পরে দেয়াল টপকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

প্রথম দিকে এলাকায় লোডশেডিং থাকায় হত্যাকাণ্ডের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে নিহতদের বাসার দুটি কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি ক্যামেরা অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে নজরদারি চালিয়ে বিকেল ৩টার দিকে তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, ফুটেজে দেখা পোশাক, ধস্তাধস্তির দৃশ্য এবং অন্যান্য আলামতের সঙ্গে বাবুলের মিল পাওয়া গেছে।

এসএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। প্রয়োজনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

নিহত আব্দুস সাত্তার পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের সঙ্গে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে লন্ডনে বসবাস করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement