তেল ব্যবসায় সবার জন্য সমান সুযোগের নীতিমালা, বেসরকারি বিনিয়োগে জোর
Published : ২০:৪৬, ১২ আগস্ট ২০২৬
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংকটকালীন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি তেল আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়; বরং সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিও জ্বালানি তেল বিপণন করছে। বাংলাদেশেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় কালোবাজারি ও অনলাইনে তেল বিক্রির ঘটনাও সামনে আসে। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সরকার বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কর অবকাশসহ বিভিন্ন প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। ক্লাস্টারভিত্তিক ও অপেক্স মডেলে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে শিল্প উৎপাদন ও নগদ অর্থপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্যোক্তারা ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়েন। সরকার শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভোলার গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি শিল্পে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের সম্ভাবনাও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি জানান, নতুন এফএসআরইউ ও মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিল্প উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
































