সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
Published : ১৩:১০, ১২ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ওরফে এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। তাঁকে ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. সাহাবুদ্দিন, সাইফুল আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য দুদকে অভিযোগ করেছিলেন ইয়াসীন আলী।
কেন সাময়িক বরখাস্ত
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, শাখা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার সরাসরি দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতের আশ্রয় নেয় এবং আদালত প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠাতে পারে।
তিনি বলেন, দুদকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকের আলাদা বিভাগ রয়েছে। শাখার একজন কর্মকর্তা কেন সরাসরি দুদকে অভিযোগ করেছেন, তা পরিষ্কার নয়। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের জন্য ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী এ ঘটনায় আদালতের কাছে যাবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংকের নথিতে ভিন্ন তথ্য
তবে ইসলামী ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে অভিযোগ করার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইয়াসীন আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি তখন ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নথি অনুযায়ী, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি সোয়েটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ করার জন্য তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৭ জুলাই জারি করা একটি চিঠির মাধ্যমে শাখা ব্যবস্থাপনা তাঁকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও দেয়।
এ কারণে ইয়াসীন আলীর দুদকে অভিযোগ করার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ব্যাংকের নথির মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন সাহাবুদ্দিন
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি, এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। এরপর তাঁর সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অভিযোগ করার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


































