একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: রিজভী
Published : ১৮:১৮, ১২ আগস্ট ২০২৬
একাত্তর ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য কোনো কোনো রাজনৈতিক দল চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রকারান্তরে একাত্তরকে ছোট করার এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলারও একটি গভীর চক্রান্ত চলছে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে বড় করে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে ছোটলোকি।’ তাঁর দাবি, যারা অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারাই এখন জুলাইয়ের ঘটনাকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হলেও সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থাকলেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা রাখা হয়নি। একইভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনীতে একাত্তরের চেয়ে জুলাইকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘কোকোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে’
প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্রীড়াক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। এসব কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।
তিনি আরও জানান, ক্রীড়ার ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
‘শেখ হাসিনা পালিয়েছেন, তারেক রহমান জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে তৎকালীন সরকারের আচরণ ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমানের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের সময় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও দেশপ্রেমকে শেখ হাসিনা মেনে নিতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান। অন্যদিকে জনগণের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর ভাষায়, একসময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়া তারেক রহমান বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।































