বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং উত্তরণের চ্যালেঞ্জ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০২:১১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত, বকেয়া অর্থ জমাদান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ধীরগতির কারণে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতিগত পরিবর্তন, বকেয়া পরিশোধে সময়ক্ষেপণ এবং নতুন বিনিয়োগ না আসার কারণেই জ্বালানি খাত এই জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন' (দায়মুক্তি আইন)-এর অধ্যাদেশ বাতিলের পর পাইপলাইনে থাকা ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩,২৮৭ মেগাওয়াট। পরবর্তীতে ৫,২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও 'সভরেন গ্যারান্টি' বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তার অভাবে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াটের জন্য আবেদন জমা পড়ে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়।

পাশাপাশি, সময়মতো পাওনা পরিশোধ না করায় বকেয়া ঋণের বোঝা বিশাল আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্রমতে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহকারীদের বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোরই পাওনা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। নিয়মিত কয়লা ও গ্যাসের বিল মেটাতে না পারায় দেশের একাধিক প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত বা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, খাতটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পূর্বে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) পুনর্বহালের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। খাতটির বর্তমান আর্থিক চাপ সামলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন নীতিনির্ধারকদের মূল লক্ষ্য।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement