জ্বালানি সংকটে চাপে বাংলাদেশ, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজার সংস্কারের উদ্যোগ
Published : ০১:৪৭, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ অন্যতম।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোও আর্থিক চাপে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পেট্রোবাংলার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি তেল আমদানি করে দেশের বাজারে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করায় গত ছয় মাসে বিপিসির লোকসান ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
একইভাবে, এলএনজি আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা জ্বালানির দাম ওঠানামার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন হলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়—সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ খাতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের বাজার ধীরে ধীরে আংশিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে আমদানি, সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে একাধিক অংশীজন যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, সরবরাহের বহুমুখীকরণ এবং দেশীয় জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিপিসি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আর্থিক চাপ কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করবে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামোর কার্যকারিতার ওপর।
































