প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে ‘স্কুলঘণ্টা’
Published : ১১:১৪, ১৩ আগস্ট ২০২৬
পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ে অবস্থিত সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুর্গম এই এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু এখানে পড়াশোনা করে। তবে গত জুলাইয়ের শুরুতে টানা ভারি বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় শ্রেণি কার্যক্রম।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসার পর দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ও হোস্টেলের নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবনটি নির্মিত হলে দুর্গম পাহাড়ে আবারও শুরু হবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
স্থানীয় বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বলেন, দুর্গম এলাকার স্কুলটি বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্কুলটি আবার নির্মাণ করা হচ্ছে দেখে তারা খুশি।
জানা গেছে, নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ২০২২ সালে সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থাও ছিল। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক রয়েছেন।
বিদ্যালয়টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জানান, ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে আসে। পরে তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে জানান। এরপর দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বিদ্যালয় ও হোস্টেল পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। গত ২৩ জুলাই নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে নির্মাণ করা হবে।
আলীকদমের সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে দ্রুত পুনর্নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বলেন, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণ শুধু একটি ভবন তৈরি নয়, বরং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি করা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা আনন্দিত।
পাড়া কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, চারটি গ্রামের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়টি ছিল একমাত্র আশার জায়গা। স্কুলটি ভেঙে পড়ায় তারা কষ্ট পেয়েছিলেন। এখন আবার বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠায় সন্তানদের স্বপ্নও ফিরে এসেছে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।


































